দো-কড়াই (শুভদার গল্প সিরিজ)

শুভাশীষ রায়

হারুন সাহেব কোনমতে সাদা শার্টটা প্যন্টে গুজে বের হয়ে পড়লেন বাসা থেকে। হাতে সময় নেই। পচাত্তর মডেলের হোন্ডা বাইকটি সযত্নে ন্যাকড়া দিয়ে মুছে স্টার্ট দিলেন। ঘরের ভিতর থেকে নাজমা বলল, “কি ব্যপার একটা রুটি তো খেয়ে যাও”। হারুন হোন্ডা নিয়ে ততোক্ষণে বের হয়ে গিয়েছে গ্যারেজ থেকে। যেতে যেতে চেঁচিয়ে বলল, “ঢাকা থেকে বড় সাহেব আসছে, দুপুরে দো-কড়াই খাবে, শেষ হবার আগেই আজ বুকিং দিতে হবে।”

দো-কড়াই। একটা আজব নাম। কুমিল্লার রসমলাই, টাঙ্গাইলের চমচম, মুক্তাগাছার মন্ডা কিংবা খুলনার চুইঝাল- বিভিন্ন জায়গার রয়েছে নিজস্ব বিখ্যাত খাবার। কোন বিখ্যাত খাবার তো দূরের কথা, হারুনের এলাকা শীতলগঞ্জে গর্ব করার মত এমন কিছুই ছিলনা এই পাঁচ বছর আগেও। এরপরেই বসল এক ছাপরা দোকান- শহরের একদম কোণায় যেই জায়গায় মূল রাস্তাটা দেবুনগরের ট্রাঙ্করোডে চলে গিয়েছে, ঠিক সেই মোড়ে যে বটগাছটা আছে, তার নিচেই একটা ভাঙ্গা টিনের শেড দিয়ে শুরু জাকিরের মাংসের দোকানের। 

কাছেই ছিল কালিবাজারের হাট। আর সেখানে মাছ নিয়ে আসত দেবুনগরের লোকজন। দেবুনগরের ঠিক মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া নদীতে যে পরিমান মাছ ধরা পরে, তা দিয়ে আশপাশের মানুষজন দুবেলা আয়েশ করে মাছ খায়। মাছে-ভাতে বাঙালি যেন এলাকার প্রতিচ্ছবি। কি ধনী, কি গরীব- সবাই এখানে খাবার পায় ঠিক মত, খাবারের সংকট এখানে কখনো ছিলনা। সকালের হাটে মাছ বিক্রি করে দেবুনগরের লোকজন ঠিক বটতলা থেকেই মিনিবাস ধরে রওয়ানা হয় বাড়ির উদ্দেশ্যে। জাকির কালিবাজারেই একটা মাংসের দোকানে কাজ করত। সে লক্ষ্য করত এই বিক্রেতাগুলো খুব ক্ষুধার্ত থাকে দুপরেবেলা, কেও কেও সাথে করে আনা কলা আর মুড়ি খায়। আশপাশে খাবারের তেমন দোকান গড়ে ওঠেনি। জাকির ভাবল একটা খাবার দোকান দিলে কেমন হয়। 

যেই ভাবা সেই কাজ, বাসায় যেয়ে মা কে বলল  জাকির, “মা আমি খাবার দোকান দিব”। 

জাকিরের বয়স পঁচিশ হবে, বিয়ে শাদি করেনি তখনো, পড়াশোনা এইট পাশ। 

জাকিরের মা বলল, “কিরে তুই জীবনে কখনো রান্না করেছিস যে খাবারের দোকান দিবি? এই বুড়ো বয়সে আমি পারব না এত মানুষের রান্নাবান্না করতে, যা বরং একটা বউ আন।” 

জাকির বলল, “মা বউ পরে হবে, আগে তোমার দুই একটা বাসনকোসন দাও, আমি কিছু প্লেট গ্লাস কিনি, কিছু জমানো টাকা আছে, তুমি আমাকে শুধু মাছ আর মাংস রান্না শিখিয়ে দাও।” 

এভাবেই শুরু, কালিবাজারের দুপুরের বেঁচে যাওয়া মাছ আর মাংশ দিয়েই শুরু এক টেবিলের দোকান। আর মানুষ আসতেও থাকল দোকানে। বাসে চরার আগে দুপুরের খাবার খেয়ে নেয়া শুরু করল দেবুনগরের লোকজন। 

এভাবে খুব ঢিলেঢালা চলল জাকিরের দোকান প্রথম দুই মাস। এরপর হঠাৎ লোক বাড়তে থাকল। কি জানি এক নতুন রেসিপি বের করেছে জাকির। দো-কড়াই। দেখতে খুবি সাধারন খাসির মাংস কষা। কিন্তু স্বাদ যেন অসাধারন। আস্তে আস্তে একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ল এই খবর। আশপাশের জেলা থেকে মানুষজন আসতে থাকল। এক জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকের নানাবাড়ি এখানে, ঈদের ছুটিতে এসে সেও এলাকার বন্ধুবান্ধব নিয়ে খেল জাকিরের দো-কড়াই। যাবার সময় জাকিরের ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছিল, খুব বিশাল করে পত্রিকায় একটা ফিচার করল সে। এরপর থেকে আসলে জাকিরের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিন্তু তার দোকানটা শহরের একদম কোণায়, যাতায়াত ও এতটা সুবিধার না। এলাকার চেয়ারম্যান খুশি হয়ে জাকির কে তার নিজের একখণ্ড জমি দিয়ে বলেছিল শহরের মাঝে দোকানটা নিয়ে আসতে। জাকির রাজি হয়নি। তার কথা এই বট গাছের নিচে তার ভাগ্য ঘুরেছে, সে এখানেই থাকবে। চেয়ারম্যান তাকে অন্তত একটা শাখা দিতে বলেছিল শহরে। জাকিরের এককথা- আমার দো-কড়াই শুধু আমিই রাঁধতে পারি, আমি কোন শাখা দিব না। যার খেতে ইচ্ছা হয় আমার টিনের চালার দোকানে এসেই খাবে।

সকাল দশটা বাজে। আজকে ঘুম থেকে উঠতে হারুন সাহেবের একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। গত চব্বিশ বছর ধরে নাবিল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর এই এলাকার সেলস এ কাজ করছে সে। সেই বিস্কুট কোম্পানি যখন বাজারে আসল, সবে বিএ পাশ করেছে হারুন। কাজের খোঁজে ঢাকা গিয়েছিল সে তখন। তার দূর সম্পর্কের চাচা আলি আকবর ছিলেন বেশ অবস্থাশালী। তার পরিচয় ছিল নাবিল সাহেবের সাথে। নাবিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। আলি আকবর শীতলগঞ্জ আর তার আশপাশে নাবিল ফুডের প্রোডাক্ট গুলোর ডিলারশিপ নিলেন। তার সুপারিশে চাকরি হল হারুনের। একেবারে শুরু থেকে নাবিল ফুডের প্রোডাক্টগুলো নিয়ে কাজ করছে সে। প্রথম প্রথম নিজেই অর্ডার কাটত। এরপর আস্তে আস্তে কোম্পানি বড় হতে থাকল। পুরো দেশে নাবিল একটা আস্থার নাম। বিস্কুট থেকে শুরু করে নুডুলস- কি নেই তাদের প্রোডাক্ট লাইনে। বর্তমানে এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে আছে হারুন সাহেব। সুযোগ ছিল হেড অফিসে প্রমোশনের। তিনি নেননি। কাজে কখনো ফাকি দেননি তিনি, কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না কখনো। সাদাসিধে জীবন টা তার বেশ চলে যাচ্ছে, আর জন্ম থেকে এই শিতলগঞ্জে তার সবকিছু, এখানে ছেঁড়ে অন্য কোথাও যাবার কথা সে ভাবতেও পারে না। আজ শিতলগঞ্জে সেলস ডিরেক্টর সাহেব আসছেন, কেতাদুরস্ত মানুষ। তাকে আপ্যায়ন করতে হবে। দো-কড়াই না খাওয়ালেই নয়। সজোরে চলছে হারুনের বাইক জারুল গাছের সারির মাঝ দিয়ে। হারুনের মনটা ভাল নেই। শীতলগঞ্জে নাবিল ফুডেরও আর সেই দিন নেই, নতুন নতুন কোম্পানির প্রোডাক্টে সয়লাব, বিক্রি কমে যাওয়ায় কারন উদ্ঘাটনে সাহেব নিজেই আসছেন আজ। মার্কেট ভিসিটের পর একটু ভালমন্দ খাইয়ে তাকে যদি একটু খুশী করা যায়। পঞ্চাশ জনের বেশি দো-কড়াই রান্না করে না জাকির, আজকে ফোনও ধরছেনা সে। নিজেই যেয়ে বুকিং টা দিয়ে এরপর হারুন যাবে বড় সাহেব কে রিসিভ করতে ট্রেন স্টেশনে। হাল্কা একটু বৃষ্টি শুরু হল যেন।

ট্রেন থেকে নামলেন ওয়ালিদ সাহেব। সাথে আরো দুইজন সেলসের কর্মকর্তা। ওয়ালিদ সাহেব গাড়ি রাখতে মানা করে দিয়েছেন। মাঠে ঘাটে চলা মানুষ। আর উনি মার্কেট ভিসিট করেন ক্রেতার মত করে। 

একটি হাফ হাতা ইস্ত্রি ছাড়া শার্ট পড়ে আছেন তিনি- দেখে মনে হবে ব্যবসার কাজে এসেছেন এদিকে, অনেক কাজ শেষ করে সদাই করে ফিরবেন এখান থেকে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে তখন। 

ওয়ালিদ সাহেব, “কি খবর হারুন ভাই, আছেন কেমন? নভেল ফুড কোম্পানি তো আমাদের ব্যবসা তো শেষ করে দিচ্ছে এদিকে, কোম্পানি টিকবে তো?”

হারুন সাহেবঃ স্যার আছি ভালই, নভেল কোম্পানি যেভাবে সেলস প্রমোশন করছে, আর দোকানে দোকানে এই অফার সেই অফার দিচ্ছে, দোকানি রা তো এখন নভেল কোম্পানির ফ্যান। মানুষ কে জোর করে ওদের জিনিস ধরিয়ে দিচ্ছে।”

ওয়ালিদঃ “এইসব শর্ট টার্ম, আমাদের কাজ আমরা করে যাব। ঠিক মত রিটেইলের যোগাযোগ আর ডিস্ট্রিবিউশন টা খেয়াল রাখেন। সব দোকানে প্রডাক্ট চাই।” বলে হারুন সাহেবের বাইকে উঠে বসলেন তিনি।

হারুন সাহেব বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বলল, “এবার কিন্তু ক্যম্পেইনে একটা ভাল গিফট দিতে হবে স্যার দোকানী ভাইদের, নাইলে আমার সম্মান টা থাকে না।”

ওয়ালিদঃ দিব দিব, আগে মার্কেট ঘুরে নেই, এরপর আপনাদের এলাকার দো কড়াই খেতে খেতে আলাপ দিবনি কেমন?

এরপর চার ঘন্টা চলল দোকানে দোকানে ঘোরা। ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে পুরো দলটি লাঞ্চ ব্রেকে গেল। বট গাছের তলায় জাকিরের দোকানে রান্না হয়ে আছে আজকের স্পেশাল দো- কড়াই। 

পথিমধ্যে ওয়ালিদ সাহেব তার কৌতুহল আটকাতে পারলনা, “তো হারুন সাহেব, দেশে বিদেশে তো কত খাবার খেলাম এই জীবনে, এই ‘দো-কড়াই’ তো শুনিনি কখনও। কি এমন জিনিস এই খাবার বলেন তো?”

হারুনঃ স্যার, না খেলে বুঝবেন না। যত দেশ বিদেশে খানা খান না কেন, এ এক আজব জিনিষ। এমন মজার খাসীর মাংস এই জীবনে কেও খায়নাই। জাকিরে এইটা দুই বার রান্ধে। দুই কড়াইতে, দুই বার। দুই রান্নার মশল্লা। এরপরে দুই কড়াই এর রান্না একটা হাঁড়িতে মিশায়া দেয় ঘুটা। মধু মধু, কি যে তার স্বাদ।”

বর্ননা শুনে ততোক্ষণে শ্রান্ত আর ক্ষুধার্থ ওয়ালিদ সাহেবের জিভে জল চলে এসেছে। গরম ভাত আরে দো-কড়াই এর মাংস- জমবে বেশ। ওয়ালিদ, “জাকিরের দোকানে নাবিল কোলা আছে তো হারুন সাহেব?”

হারুন সাহেবঃ তা আছে অবশ্যি, নতুন ফ্রিজ দিয়ে এসেছি স্যার। আর জাকির শুরু থেকেই আমাদের মশলা ব্যবহার করে, কোয়ালিটিতে ওর কোন কমপ্রোমাইজ নেই স্যার। ছেলেটা ভাল।

ওয়ালিদঃ বাহ খুব ভাই কথা। ওর সাথে আমি কথা বলতে চাই।

হারুন সাহেবঃ তা অবশ্যই বলায় দিব স্যার, তয় জাকির খুব শাহির নায়কের ভক্ত, নোভেল কোম্পানির কাছে শাহিরের এডের একটা সাইনেজ চাইছে স্যার।

ওয়ালিদঃ তাই নাকি, প্রোডাক্ট আমাদের, সাইনেজ নোভেলের? যাই হোক, ক্ষুধায় মরে যাচ্ছি, আগে চল পেটপুজো টা হয়ে নেক।

হারুনের বাইক থামল বটতলায়। রুমালে ঘাম মুছে দোকানে ঢুকল ওয়ালিদ সাহেব, সাথে ঢাকা অফিসের বাকি দুজন। প্লাস্টিকের টেবিল, প্লাস্টিকের চেয়ার। কোন চাকচিক্য নেই। কিন্তু সব চাইচিক্য ওই মেলামাইনের প্লেটটাতে। দুটো বড় সাইজের মাংসের টুকরো জানান দিচ্ছে, এখানকার রাজা হল তারা। কষা মাংস দেখে আসমান থেকে আসা কোন রেসিপি যদিও মনে হচ্ছে না, ওয়ালিদ ভাবলেন। হয়তো ওভার হাইপড, কিন্তু ব্যটা এই অজ পাড়াগায় কি ব্র্যান্ড পজিশনিংটাই না করেছে। এদের ব্লু ওশান স্ট্র্যাটেজি পড়া লাগেনা, এরা ইনোভেশনের সহজাত প্রবৃত্তি নিয়েই যেন জন্মায়, মনে মনে বললেন ওয়ালিদ।

দুই বার ভাত নিলেন ওয়ালিদ। আরেক প্লেট মাংস অর্ডার করলেন। সাথে পেঁয়াজ আর পেপের সালাদ। কি যেন একটা আছে এই দো-কড়াইতে। একটু পোড়া পোড়া- একটু মসলার ঝাঁঝ, এক সম্মোহনী আকর্ষনীয় ব্যপার আছে রান্নাটায়। এর পিছনের রহস্য বের করতেই হবে, ভাবলেন ওয়ালিদ। হারুন কে বললেন উনি দেখা করতে চায় জাকিরের সাথে।

জাকির বসে আছে ওয়ালিদের সামনে। সবুজ রঙের পুরনো টিশার্ট আর গলায় গামছা। মুখে দাড়ি। আর সবসময় একগাল হাসি লেগেই আছে। ওয়ালিদ সাহেব এসেছেন দেখে খুব খুশি সে। একেবারেই দাম নিবে না। নাবিল মশলা তার রান্নার কাঁচামাল। তাদের বড় সাহেব থেকে সে দাম নিতেই পারেনা।

ওয়ালিদঃ তো জাকির সাহেব, দামের ব্যপার পরে, আগে বল আমায়, কি জাদু তোমার দো-কড়াই তে। তোমার থেকে যদি একটু সেলস টা শিখতে পারি, মন্দ হয়না।

জাকিরঃ স্যার কি যে বলেন, আপনারা এত বড় মানুষ, আমি তো শুধু মন লাগায়া রান্না করি এই যা। বিক্রি বাট্টা আমি তেমন বুঝিনা স্যার।

ওয়ালিদঃ তো এই দুইটা আলাদা কড়াই এ রান্নার আইডিয়া পাইলা কই মিয়া? এক আইডিয়া দিয়াই তো বাজিমাত। আমাদের কিছু আইডিয়া দাও।

জাকিরঃ আসলে স্যার বুদ্ধি আসে জীবনে প্রয়োজন থেইকা। আসলে সে পাঁচ বছর আগের কথা। মাত্র দোকান শুরু করছি। নতুন বাসন কোসন কেনার ট্যকা নাই। আম্মার রান্নাঘরে বড় বাসন যা ছিল তাই লইয়া আসছি। তো একদিন হইল কি দোকানে ভিড় একটু বাড়ছে, হাটবার ছিল কিনা। কিন্তু আমার তো অত বড় পাতিল নাই, তাই দুইটা ছোট পাতিলে রানসি মাংস। আর এখানের মানুষতো মাছ এম্নেই অনেক খায়, আর আমি আগে মাংসের দোকানে কাজ করতাম, ভাবছি মজার মাংস পাইলে মানুষ রেগুলার খাইতে আইবো। তো একলগে দুইটা কড়াইতে রানতে যায়ে একটা তে একটু পোড়া লাগছে, আরে একটায় মসলা বেশি পইড়া গেছে। তো আমি করলাম কি, লোকে যেন পোড়া টা না বুঝে, দুই কড়াই মিশায়া মিশায়া খাবার দিলাম। তো ওইদিন মাইনষে খুব প্রশংসা করল। শুইনা পরদিনও একি কাজ করলাম। এমনেই আস্তে আস্তে ছড়ায় গেল জাকিরের দো-কড়াই। এখন নাম এমন হইয়া গেছে- দুই কড়াইতে যেমনেই রান্ধি না কেন, মানুষ খাইব। এই হইল আমার কাহিনী।

মন দিয়ে শুনলেন জাকিরের গল্প ওয়ালিদ। দো-কড়াই। শীতলগঞ্জে ব্যবসা পুনরুদ্ধারে তার লাগবে দো-কড়াই। ফোন দিলেন মার্কেটিং হেড কে। একটা কন্টেন্ট মার্কেটিং করতে বললেন জাকির কে নিয়ে। আর জাকির ব্রান্ডেড একটা সাইনেজ। কপি থাকবে “দো- কড়াই রান্না হয় নাবিল মসলায়।”

হাত ধুতে ধুতে বললেন হারুন সাহেব কে, “হারুন সাহেব, দোকানদারদের জন্য প্রমোশনাল গিফট খুঁজছিলেনে না, সবাই কে বলেন টার্গেট পুরন হলে পাবে:

দুইটা কড়াই।”

ধনিয়া চিবুতে চিবুতে বাইক স্টার্ট দিল হারুন। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দিলেন ওয়ালিদ। জাকিরের দোকানের উপর বটগাছটার ডালে বসে তাদের চলে যাওয়া দেখলেন জাকিরের বন্ধু খায়রুল। এই পাশের ট্রেন লাইনের ধারেই পাঁচ বছর আগে ট্রেনে কাঁটা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল তার। এরপর থেকে বটতলায় বাস। বাবুর্চি ছিলেন নিজে, এখনো বন্ধুর জন্য কাজটি করে যাচ্ছেন প্রতিদিন। ব্যবসার সব সিক্রেট বলতে নেই, জাকিরও এই সিক্রেট কখনো কাউকে বলেনা।

লেখক পরিচিতিঃ শুভাশীষ রায় কর্মজীবনে একজন মার্কেটার, কাজ করছেন বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে। ব্রিটিশ সরকারের শেভেনিং স্কলারশিপ নিয়ে বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে আছেন যুক্তরাজ্যে। স্নাতকোত্তর করছেন ক্রিয়েটিভিটিঃ ইনোভেশন এন্ড বিজনেজ স্ট্র্যাটেজি নিয়ে। এবারের বই মেলায় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রথম ক্রিয়েটিভ জার্নাল “যা ইচ্ছে তাই”। তরুনের জন্য প্রতি সপ্তাহে লেখছেন তার ছোট গল্প সিরিজ “শুভদার গল্প”। লেখকের কাছে মতামত পাঠাতে পারেন এই ইমেইলেঃ [email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *