ইনোলা হোমসঃ শার্লকের দুঃসাহসী ভগিনী

Fhamida Sikder

 ইনোলা হোমস!! এ আবার কেমন হোমস? ২০১৯ সালে যখন নেটফ্লিক্স ঘোষণা দিলো যে, তারা ইনোলা হোমসকে নিয়ে মুভি আনতে চলেছে তখন আমার মতোই অন্যসব শার্লকপ্রেমীদের মনেই এই প্রশ্নের উদয় হয়েছে। যারা শার্লক হোমস সিরিজ পড়েছেন তারা জানে্ন যে আর্থার কোনান ডয়েলের বইয়ে কোথাও ইনোলার কোন অস্তিত্ব নেই। তাহলে এই ইনোলাটা আবার কে? ইনোলা হচ্ছে শার্লক হোমসের ১৪ বছর বয়সী ছোট বোন যে কিনা মার্কিন রহস্য উপন্যাস লেখিকা ন্যান্সি স্প্রিংগারের সৃষ্ট একটি চরিত্র। 

২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় ন্যান্সি স্প্রিংগারের লেখা ‘ইনোলা হোমস মিস্ট্রিস’ এর প্রথম বইটি। সেই থেকে এই পর্যন্ত সিরিজের মোট ৬ টি বই বের হয়েছে। উল্লেখ্য, স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের সময় থেকে প্রচুর লেখক শার্লক হোমসকে নিয়ে অনেক বই লিখেছেন। আবার অনেক লেখক শার্লক হোমস সিরিজের নানা চরিত্র, ঘটনা, উপাদান নিয়ে নিজেদের সৃষ্ট চরিত্রকে কেন্দ্র করে নিজেদের মতো করে বই লিখেছেন।এর ভিতরে উল্ল্যেখযোগ্য হলো ব্রিটানি কাভায়েরোর ‘শার্লট হোমস’ সিরিজ, লরি আর কিংসের ‘মেরি রাসেল এন্ড শার্লক হোমস’ সিরিজ ইত্যাদি। এইসব গুলো সিরিজই  ‘ক্যানন অব শার্লক হোমস’ সিরিজের প্যাস্টিশ। প্যাস্টিশ সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই তাদের জন্য বলছি, এটি এমন এক ধরণের শিল্প যেখানে একজন লেখকের বা শিল্পীর একটি চরিত্র নিয়ে অন্য কোন লেখক কাজ করেন। প্যারডির বিপরীত প্যাস্টিশ। প্যারডিতে কোনকিছু বা কাউকে বিদ্রূপ বা উপহাস করা হয়,আর প্যাস্টিশে করা হয় উদযাপন বা অনুকরণ। ন্যান্সি স্প্রিংগার ইনোলা হোমস লিখতে আসল শার্লক হোমস সিরিজ থেকে ধার করেছেন সেইসময় কাল অর্থাৎ ১৮শ শতকের পটভূমি এবং শার্লক, মাইক্রফট ও ওয়াটসনের মতো চরিত্রকে। ধারণা করা হয়, এই কিশোর উপন্যাস সিরিজটি শার্লক হোমস সিরিজের অন্যতম সেরা প্যাস্টিশ। 

কিছুদিন আগেই বের হয়েছে ‘ইনোলা হোমস’ মুভির ট্রেইলার আর ট্রেইলারেই বাজিমাত করলো শার্লক ভগিনী। ট্রেইলারে ইনোলার জীবনের প্রেক্ষাপটের সাথে তার মা ও বিখ্যাত গোয়েন্দা ভাইয়ের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। এক সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে ইনোলা আবিষ্কার করে যে তার মা অদৃশ্য হয়ে গেছে বা সহজ কথায় স্বেচ্ছায় গৃহত্যাগ করেছেন। যখন সে তার ভাইয়েদের মায়ের অন্তর্ধান সম্পর্কে জানতে চায়  তখন শার্লক ও মাইক্রফট তাদের বোনকে এসব নিয়ে চিন্তা না করে স্কুলে যেয়ে পড়াশোনা করতে বলে, যাতে সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। কিন্তু ইনোলা এসবের তোয়াক্কা না করে স্কুল পালিয়ে বেরিয়ে যায় মাকে খোঁজার দুঃসাহসিক অভিযানে। সেইসাথে তাকে ধরতে পিছু নিলো শার্লক ও মাইক্রফট। ‘ফ্লিব্যাগ’ ও ‘কিলিং ইভ’ খ্যাত নির্মাতা হ্যারি ব্র্যাডবিয়ার পরিচালিত মুভিটিতে ইনোলা হোমস চরিত্রে দেখা যাবে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ খ্যাত অভিনেত্রী মিলি ববি ব্রাউনকে। আর শার্লক হোমস হিসেবে আসছে, ‘ম্যান অব স্টিল’ হেনরি কেভিল। এর আগে অনেক অভিনেতাকেই দেখা গিয়েছে বিখ্যাত এই গোয়েন্দার চরিত্রে। এর ভিতর অধিক জনপ্রিয় হয়েছেন বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ ও রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। তাই কেভিলকে শার্লক রূপে দেখতে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। আবার ইতিমধ্যেই কোনান ডয়েল স্টেট মুভিটি নিয়ে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কারণ, এতে নাকি শার্লককে বেশি হাস্যজ্জ্বল এবং আবেগী হিসেবে দেখিয়ে তারা কপিরাইট লঙ্ঘন করেছে। আসছে ২৩ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বছরের বহুপ্রতীক্ষিত এই ছবিটি।      

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *